
যান্ত্রিকতায় হারিয়ে যাচ্ছে সোনালি শৈশব
জন্মের তিন কিংবা চার বছর পরেই বাবা-মায়েরা সন্তানের হাতে ধরিয়ে দেন স্মার্ট ফোন। স্মার্ট ফোন হাতে দিয়ে কার্টুন দেখিয়ে দেখিয়ে খাবার খাওয়ান। শৈশব থেকে এই অভ্যাসের কারণে স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে বই রেখে ড্রেস না খুলেই বসে পড়ে ফোন নিয়ে। মুঠোফোনের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার শিশু-কিশোরদের সামাজিক ও মানসিক বিকাশে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। গত শতাব্দের নব্বইয়ের দশকের ছেলেমেয়েদের কাছে শৈশব হচ্ছে বিকেলে পাড়ার সব ছেলেমেয়েরা জড়ো হয়ে লুকোচুরি, গোল্লাছুট, মার্বেল,সাতধাপ্পা, লাটিম খেলা। ঝড়ের দিনে আম কুড়ানো, নদীতে ঝাঁপিয়ে সাঁতার কাটা। যা এখন খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। ফলে শিশুদের কোন কিছুতে যথাযথ মনোনিবেশ এবং বাস্তব জীবনে কার্যকর যোগাযোগ গড়ে তোলার ক্ষমতায়ও বিঘ্ন ঘটে। এখনকার ছেলেমেয়েদের শৈশবের দুরন্তপনা প্রযুক্তির দেয়ালে বন্দি। যে বয়সে ছেলেমেয়েদের বাধাহীন জীবনযাপন, খেলার মাঠে ছুটে চলা, বিরামহীন আড্ডায় মেতে ওঠার কথা—সে বয়সে তারা স্মার্ট ফোনসহ প্রযুক্তির বিভিন্ন ডিভাইসের প্রতি আসক্ত হচ্ছে। উন্নতির জোয়ারে গা ভাসিয়ে আমরা আমাদের শৈশবকে ডুবিয়ে দিচ্ছি আধুনিকতার কড়াল গ্রাসে। তাই শিশু-কিশোরদের রঙিন শৈশবকে ধরে রাখতে পারিবারিক ও সামাজিক সচেতনতা জোরদার করা উচিত।
শায়লা ইসরাত জাহান, শিক্ষার্থী, ভাষাসৈনিক অজিত গুহ মহাবিদ্যালয়, কুমিল্লা
প্লাস্টিক বর্জন জরুরি
পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় প্লাস্টিক বর্জন আজকের দিনের সবচেয়ে জরুরি বিষয়। দীর্ঘস্থায়ী এই কৃত্রিম পদার্থ আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠলেও এর ক্ষতিকর প্রভাব আমাদের অস্তিত্বকেই হুমকির মুখে ফেলেছে। প্লাস্টিক মাটিতে মেশে না, ফলে মাটির উর্বরতা নষ্ট করে। পানিতে ফেলা প্লাস্টিক জলজ প্রাণীর জন্য মারাত্মক। প্লাস্টিক পোড়ালে বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয় যা বায়ুদূষণের অন্যতম কারণ। প্লাস্টিকের ক্ষতিকর রাসায়নিক জনস্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক। প্লাস্টিক বর্জন করে বিকল্প হিসেবে কাপড়ের ব্যাগ, কাচের বোতল, ধাতু বা কাঠের তৈরি জিনিসপত্র ব্যবহার করা। প্লাস্টিকের বর্জ্য রিসাইক্লিং করে নতুন পণ্য তৈরি করা যায়। প্লাস্টিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আইন প্রণয়ন ও কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা। জনসাধারণকে প্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব ও বিকল্প পণ্য ব্যবহারের বিষয়ে সচেতন করা। পরিবেশ রক্ষার জন্য প্লাস্টিক বর্জন আমাদের সবার নৈতিক দায়িত্ব। প্লাস্টিক বর্জন শুধু পরিবেশ রক্ষার জন্যই নয়, আমাদের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্যও অপরিহার্য।
সৌরভ হালদার
শিক্ষার্থী, সরকারি ব্রজলাল কলেজ, খুলনা
রাবি কাজলা গেটে যানজট
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি অন্যতম প্রবেশদ্বার কাজলা গেটে প্রায়শই লক্ষ করা যায় যানজট। কাজলা গেটের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে প্রবেশকালে প্রায়শই দেখা যায় যে বাসসহ বিভিন্ন গাড়ির চালক ও তাদের সহায়করা রাস্তার মাঝখানে মাত্রাতিরিক্ত সময় ধরে দাঁড়িয়ে গাড়িতে যাত্রী তুলছেন। তাদের এভাবে রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকার ফলে পথচারীদের নিয়মিত রাস্তা পারাপারে অসুবিধা, সময় নষ্ট এবং প্রচুর শব্দদূষণ হয়ে থাকে। আবার যানবাহন ও মানুষের বিশৃঙ্খল মিশ্রণের ফলে পথচারীরা ক্রমাগত প্রতিকূলতার মুখোমুখি হন এবং কিছু চালকের অদক্ষতার কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়ে যায়। পরিস্থিতিটি ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে অবিলম্বে দৃষ্টিপাত ও পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিনীত আবেদন জানাচ্ছি।
মো. তারেক আলী
শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়
সচেতন হলে বদলে
যাবে পরিবেশ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বিভিন্ন রাস্তার পাশে ময়লা-আবর্জনা পরে থাকে। এটার মূল কারণ আমরা নিজেরা সচেতন নই। ক্যাম্পাস চলমান অবস্থায় রাস্তার পাশে বিভিন্ন মুখরোচক খাবারের দোকান বসে। সেখান থেকে আমরা অল্প সময়ের জন্য কাগজের প্যাকেটে বা পলিথিন ব্যাগে খাবার নিয়ে হাঁটতে হাঁটতে খাই। খাবার খেয়ে অবশিষ্টাংশ এবং প্যাকেট রাস্তার পাশে ফেলে দেই—এতে পরিবেশ নষ্ট হয়। ময়লা বাতাসে উড়ে যেয়ে ড্রেনে পরে ড্রেন ভরতি হয়। এর ফলে পানি দূষিত হয়ে বিভিন্ন পানিবাহিত এবং বাতাসের কারণে বিভিন্ন রোগব্যাধি ছড়ায়। এখন প্রতিকার কী? রাস্তার পাশে দোকানে ময়লার ঝুড়ি রাখতে হবে। ড্রেনেজ সিস্টেম সচল করতে হবে। আমাদের নিজেদের সচেতন হয়ে খাবারের অবশিষ্টাংশ, প্যাকেট টিস্যু ইত্যাদি নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে। সর্বশেষ ক্যাম্পাসে ডাস্টবিন বসানোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।
মো. মানিক রহমান
শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
পাক্ষিক অনন্যার জন্য লেখা আহ্বান
তাসমিমা হোসেন সম্পাদিত পাক্ষিক অনন্যার জন্য নারী লেখকদের কাছ থেকে লেখা আহ্বান করা হচ্ছে। গল্প ও প্রবন্ধ সর্বোচ্চ ২০০০ শব্দের মধ্যে পাঠাতে হবে। কবিতা ছোট হওয়া বাঞ্ছনীয়। লেখা যে কোনো সময় পাঠাতে পারেন। পাক্ষিক অনন্যা এখন সম্পূর্ণই ডিজিটাল। নির্বাচিত লেখা প্রতি মাসের ১ ও ১৬ তারিখে অনন্যার ই-পেপারে প্রকাশিত হবে।
লেখা পাঠানোর ইমেইল: [email protected]
0