ইআরডির কর্মশালায় বক্তারা

ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে

সময়োচিত সংস্কার করতে হবে

Åন্যাশনাল ট্যারিফ পলিসি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে

Åনগদ ভর্তুকি সুবিধার বিকল্প খুঁজে বের করতে হবে

g ইত্তেফাক রিপোর্ট

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণ পরবর্তী সময়ের জন্য বাংলাদেশকে প্রস্তুতকরণের লক্ষ্যে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির জন্য সময়মাফিক সংস্কার ও সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে। রপ্তানি বহুমুখীকরণসহ পোশাক পণ্যের নতুন নতুন বাজারও অনুসন্ধান করতে হবে। গতকাল বুধবার রাজধানীতে তৈরি পোশাক শিল্পে রপ্তানি বহুমুখীকরণ বিষয়ে এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়া এ কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি তৈরি পোশাক খাতে ব্যবস্থাপনা পর্যায়ে বিদ্যমান মানবসম্পদের ঘাটতি পূরণ করার দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে আরো বেশি বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়েছেন। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সাপোর্ট টু সাসটেইনেবল গ্র্যাজুয়েশন প্রকল্প (এসএসজিপি) এই কর্মশালার আয়োজন করে। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠসচিব তপন কান্তি ঘোষ এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশানের (বিটিএমএ) প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আলী খোকন। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন ইআরডি সচিব মো. শাহ্?রিয়ার কাদের ছিদ্দিকী। কর্মশালায় জানানো হয়, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ বা এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন প্রক্রিয়াকে মসৃণ ও টেকসই করতে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন খাতভিত্তিক গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় সাম্প্রতিক সময়ে এসএসজিপি প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে দুটি গবেষণা সম্পন্ন করা হয়েছে।

রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (র?্যাপিড)-এর সহযোগিতায় স্টাডি অন আপস্কেলিং দ্য আরএমজি সেক্টর শীর্ষক গবেষণায় বলা হয়েছে, বিশ্ববাজারে তুলাজাত পোশাকের তুলনায় ম্যান মেইড ফাইবার বা কৃত্রিম তন্তুর পোশাকের চাহিদা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে, তা সত্ত্বেও বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে কৃত্রিম তন্তুর তুলনায় তুলাজাত পোশাকের রপ্তানি প্রবৃদ্ধির হার অপেক্ষাকৃত বেশি। গবেষণা প্রতিবেদনে একটি ফাইবার সিকিউরিটি স্ট্র্যাটেজি বা তন্তু নিরাপত্তা নীতিমালা প্রণয়ন, সব ধরনের ফাইবার বা তন্তু আমদানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদান এবং ম্যান মেইড ফাইবার বা কৃত্রিম তন্তুর ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য একটি পৃথক বিনিয়োগ তহবিল গঠনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট (পিআরআই)-এর সহযোগিতায়  মার্কেট এক্সেস, কম্পিটিটিভ অ্যাডভান্টেজ অ্যান্ড এক্সপোর্ট ডাইভারসিফিকেশন শীর্ষক গবেষণায় বলা হয়েছে, ন্যাশনাল ট্যারিফ পলিসি ২০২৩-এর দ্রুত এবং কার্যকর বাস্তবায়ন করতে হবে। আলোচনায় অংশ নিয়ে ইআরডি সচিব মো. শাহিরয়ার কাদের ছিদ্দিকী বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পে ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বেসরকারি খাতকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করতে হবে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব তপন কান্তি ঘোষ বলেন, স্বল্পোন্নত দেশ হতে উত্তরণ-পরবর্তী সময়ের জন্য রপ্তানিকারকদের প্রস্তুত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশকে নগদ ভর্তুকি সুবিধার বিকল্প খুঁজে বের করতে হবে।

বিটিএমইএ প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, ফাইবার বা তন্তু আমদানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশি পোশাক রপ্তানিকারকগণ মালটি ফাইবারসহ বিভিন্ন ধরনের পোশাকের বাজারে ব্যবসা সম্প্রসারণ করতে পারবেন। কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইআরডির অতিরিক্ত সচিব ও এসএসজিপি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ফরিদ আজিজ। প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য দেন—ইআরডির সাবেক সচিব ও এসএসজিপি প্রকল্পের উপদেষ্টা শরিফা খান, ইপিবি ভাইস চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসান, শুল্ক রেয়াত ও প্রত্যর্পণ পরিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. বেলাল হোসাইন চৌধুরী এবং বিজিএমইএ পরিচালক আবদুল্লাহ হিল রাকিব।  বক্তারা স্থানীয় উত্পাদকদের বৈশ্বিক ভ্যালু চেইনের সঙ্গে সম্পৃক্তকরণ এবং স্থানীয় পণ্যের আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিতকরণের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। সেই সঙ্গে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ করতে স্থানীয় রপ্তানিকারকদের গবেষণা, মানোন্নয়ন, বাজারজাতকরণ ও প্রচারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করতে হবে।