
ডিজিটাল বাংলাদেশের সঙ্গী ইত্তেফাক
রাইজআপ ল্যাবস
পত্রিকা তো বাজারে অনেক আছে। কিন্তু বাংলাদেশ সৃষ্টির সাক্ষী ও সহযোগিতাকারী পত্রিকার সংখ্যাই বা কত! পূর্ব-পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ। একটি দেশের সূচনা থেকে স্বাধীনতা, এরপর ডিজিটাল বাংলাদেশের সাক্ষী। যাত্রার শুরু থেকে পদে পদে বাধার সম্মুখীন হলেও যার অগ্রযাত্রা থামাতে পারেনি কেউ। আজ সেই দৈনিক ইত্তেফাকের ৭১ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। অপ্রতিরোধ্য গতিতে আরো একটি বছরে পা দিলো দেশের স্বাধীনতার অন্যতম এই সাক্ষী। দেশের আইটি ও প্রযুক্তি সমাধানকারী প্রতিষ্ঠান রাইজআপ ল্যাবস পরিবারের পক্ষ থেকে দৈনিক ইত্তেফাককে আমরা জানাই জন্মদিনের শুভেচ্ছা।
নতুন প্রজন্মের অনেকের কাছেই অজানা দেশ গঠনে এই পত্রিকাটির ভূমিকা। ফেসবুক-টুইটারের যুগে সবাই হাতের স্পর্শেই পেয়ে যাচ্ছেন তাত্ক্ষণিক খবর। তাই বলে ইত্তেফাকও পিছিয়ে নেই। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে প্রযুক্তির ব্যবহার করে তারাও খবর পৌঁছে দিচ্ছে মুহূর্তের মধ্যেই।
তবে পেছনের গল্পটা না জানলেই নয়। ইত্তেফাকের ৭১ বছরের পথচলায় পেরোতে হয়েছে অনেক চড়াই-উত্রাই। হামলা, মামলার শিকার হয়েও থেমে থাকেনি তারা। শুরুটা হয়েছিল ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন আওয়ামী মুসলিম লীগ নামে যখন নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠন হয়। তাদের মুখপত্র হিসেবে একটি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেন দলটির প্রতিষ্ঠাতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, আবদুল হামিদ খান ভাসানী, সামসুল হকসহ প্রমুখ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। সেই বছরের ১৫ আগস্টেই প্রতিষ্ঠিত হয় ‘সাপ্তাহিক ইত্তেফাক’। যার সম্পাদক ছিলেন তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া, সভাপতি আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং প্রকাশক ইয়ার মোহাম্মদ খান।
এই পত্রিকার মাধ্যমেই দেশে খবর ছড়িয়ে পড়ে ৫২’র ২১ শে ফেব্রুয়ারিতে যখন বাংলা ভাষা আন্দোলনের মিছিলে গুলিবর্ষণ ও হত্যাকাণ্ড হয়। ১৯৬৬ সালে ছয় দফা দাবি, ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ—সব কিছুরই চূড়ান্ত সাক্ষী দৈনিক ইত্তেফাক।
এর মাঝেই, ১৯৫৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর সাপ্তাহিক ইত্তেফাক থেকে দৈনিক পত্রিকা হিসেবে যাত্রা শুরু করে তারা। এসময় পশ্চিম পাকিস্তান সরকার কর্তৃক পূর্ব-পাকিস্তানিদের ওপর বিভিন্ন নির্যাতন ও বৈষম্যের সংবাদ নিয়মিত তুলে ধরত পত্রিকাটি। আইয়ুব খান থেকে ইয়াহিয়া খান পর্যন্ত সকল সামরিক শাসনের বিরোধিতা করে জনগণের বার্তা শাসকদের কাছে পৌঁছাত তারা।
দেশের সকল ক্রান্তিকালে তা নিয়ে গণমানুষের কাছেও খবর পৌঁছে দিয়েছে তারা। তাই তাদের অবদান কখনোই ভোলার নয়। সত্যকে তুলে ধরতে সবসময়ই আপসহীন অবস্থান এই দৈনিকের। সত্য প্রকাশের ক্ষেত্রে দল, মত ও মতাদর্শিক বিশ্বাস প্রাধান্য পায় না। ইত্তেফাকের প্রতিবেদনে দল-মত নির্বিশেষে এ ধরনের নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি সবার কাছে অত্যন্ত পছন্দনীয় বিষয়। আগামী দিনেও তারা দেশ ও জাতির সমৃদ্ধির অগ্রযাত্রায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে—এমন প্রত্যাশাই রাইজআপ ল্যাবসের। পত্রিকাটির অনলাইন সংস্করণে টেক, বাণিজ্য, বিশ্ব সংবাদ ও প্রিন্ট সংস্করণের শিল্প বাণিজ্য পাতার নিয়মিত পাঠক রাইজআপ ল্যাবস। প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার সুবাদে দেশ ও বহির্বিশ্বের টেক দুনিয়ার খবর জানতে এই পত্রিকাটির শরণাপন্ন হই আমরা। কারণ, দেশকে ডিজিটাল বাংলাদেশে রূপান্তরে অনন্য ভূমিকা রেখেছে ইত্তেফাক। সরকারের পাশে থেকে এখন স্মার্ট বাংলাদেশ হিসেবে এগিয়ে যেতে সকল আইটি কোম্পানিকেই গুরুত্ব দিয়ে বিশেষ সংবাদ প্রকাশ করে আসছে তারা। এছাড়াও, টেক বিশ্বের নতুন সব প্রযুক্তি ব্যবহার, ভবিষ্যত্ ও সম্ভাবনা নিয়ে নিয়মিত আয়োজন করে থাকে ইত্তেফাক। যা পাঠকের প্রযুক্তি বিষয়ক অনুসন্ধিত্সা মেটাতে সাহায্য করে। মোবাইলে স্প্যামের সমস্যা? পত্রিকাটির টেক বিভাগে গেলেই মিলবে সমাধান। আবার কোনো অ্যাপস অথবা মোবাইলের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত? পাশে আছে ইত্তেফাক। প্রযুক্তির ব্যবহারে সতর্ক থাকার উপায়ও বাতলে দেবে পত্রিকাটি।
তবে সংবাদ পরিবেশনে নিরপেক্ষতা, সততা তথা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পথিকৃত্ এই দৈনিকটি। বস্তুনিষ্ঠ এবং গঠনমূলক সংবাদ পরিবেশনের মাধ্যমে দেশে সুশাসন, গণতন্ত্র ও উন্নয়নের ধারা ত্বরান্বিত করতে অবদান রেখে চলেছে দৈনিক ইত্তেফাক। পত্রিকাটি পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দেশ ও দশের কথা বলে মাটি ও মানুষের আরো কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হবে বলে আমাদের প্রত্যাশা। ৭১ বছরে পদার্পণ করায় ইত্তেফাকের প্রকাশক, সম্পাদক, সকল সাংবাদিক, কর্মকর্তা ও কলাকুশলীর প্রতি রাইজআপ ল্যাবসের উষ্ণ অভিনন্দন।