
ক্ষুদ্র মত্স্যজীবীদের উন্নয়নে
নারী-পুরুষের সমতা জরুরি
বাংলাদেশ ভারত ও থাইল্যান্ডের অংশগ্রহণে আঞ্চলিক সংলাপে বক্তারা
g ইত্তেফাক রিপোর্ট
টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের জন্য সামুদ্রিক পরিবেশগত উন্নয়নের পাশাপাশি ক্ষুদ্র মত্স্যজীবীদের আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও নারী-পুরুষের সমতা জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞজন। তারা বলেছেন, বাংলাদেশ, ভারত এবং থাইল্যান্ডের মতো দেশের অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র-মত্স্য খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মত্স্য আহরণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ, বিপণন প্রক্রিয়াসহ নানাবিধ কর্মকাণ্ডে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ সত্ত্বেও সম্পদ বা পরিষেবাগুলোতে তারা উপেক্ষিত। তারা সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সীমিত ক্ষমতা, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের ঘাটতি, সম্পদের ওপর মালিকানায় তাদের অবদান এখনো অবমূল্যায়িত। গতকাল সোমবার ‘ক্ষুদ্র মত্স্য খাতে জেন্ডার বিষয়ক সাধারণ বৈশিষ্ট্য : বাংলাদেশ, ভারত ও থাইল্যান্ডের তুলনামূলক চিত্র’ শীর্ষক আঞ্চলিক সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন। সুইড-বায়োর অর্থায়নে এসডিএফ, থাইল্যান্ড; ল-ট্রাস্ট, ভারত এবং কোস্ট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ সমন্বিতভাবে ভার্চুয়ালি এই সংলাপের আয়োজন করে।
বাংলাদেশ কোস্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক এম রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, মাছ ধরার বড় বড় ট্রলারগুলোকে সরকার নিবন্ধন দিলেও তারা নিয়ম লঙ্ঘন করে ক্ষুদ্র জেলেদের সীমানায় মাছ ধরছে। ফলে ক্ষুদ্র জেলেদের আয়ের ঝুঁকি বাড়ছে। তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদার এবং সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা তৈরি ও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আব্দুল ওহাব বলেন, প্রযুক্তিগত দিক থেকে নারীরা পুরুষদের থেকে অনেক পিছিয়ে। জেলে পল্লিগুলোতে বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যা এখনো অনেক প্রকট। নারীর ক্ষমতায়নের জন্য তাদের দক্ষতা বাড়ানো এবং বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টির জন্য জাতীয় পর্যায়ে প্ল্যাটফরম তৈরির তাগিদ দেন তিনি।
ভারতের মত্স্যজীবী সমিতির সমন্বয়কারী হারমান কুমারা বলেন, ক্ষুদ্র মত্স্য খাতে নারীদের এত অবদান সত্ত্বেও তারা উপেক্ষিত। এজন্য সরকারের সঙ্গে অ্যাডভোকেসি করতে হবে এবং এই প্রক্রিয়ায় যুব সম্প্রদায়কে যুক্ত করতে হবে। ভারতের প্রতিনিধি সুশান কিরা বলেন, মত্স্য খাতের সব বিষয়ে পুরুষদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। আমরা যদি গাইডলাইন বা নীতিমালাগুলো পর্যালোচনা করি তবে দেখতে পাব, সব নির্দেশনা শুধু পুরুষদের জন্য। তিনি নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর জোর দাবি জানান। থাইল্যান্ডের প্রতিনিধি গান্ধি মাথি আলগার বলেন, পারিবারিক ও সামাজিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নারীর ভূমিকা অস্বীকার করা হচ্ছে। জেন্ডার সংবেদনশীল নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
থাইল্যান্ডের প্রতিনিধি খাইরায়াহ রহমানিয়া বলেন, শিল্পায়নের কারণে থাইল্যান্ডের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবেশগত বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে, মত্স্য খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সে জন্য তিনি জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধের দাবি জানান। সুপাপোর্ন ফানরিয়া বলেন, পরিবেশগত বিপর্যয়ের কারণে আন্দামান দ্বীপপুঞ্জে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র হুমকির মুখে। সে জন্য খাদ্য উত্পাদন ও বিপণন প্রক্রিয়ায় নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন করতে হবে। রাবাডি প্রসের্টচারো এনসুক বলেন, ক্ষুদ্র মত্স্য পরিবারের নারীদের ক্ষমতায়ন ছাড়া তাদের উন্নয়ন কোনোভাবেই সম্ভব নয়। উপস্থিত ক্ষুদ্র জেলে সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা তাদের বক্তব্যে সরকারি পরিষেবা ও সম্পদে নারীর অন্তর্ভুক্তি, মজুরি বৈষম্য এবং কর্ম পরিবেশের অন্তরায় চিহ্নিত করে সেগুলোর আশু সমাধান, উদ্যোক্তা তৈরির জন্য সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা, সক্রিয় রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এবং শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে তাদের অন্তর্ভুক্তি বাড়ানো, ক্ষুদ্র জেলে পরিবারগুলোর প্রথাগত অধিকারগুলোর স্বীকৃতি ও সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণসহ বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরেন।