
প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে চাই
কাঠামোগত আইনি ব্যবস্থা
জলবায়ুবিষয়ক সেমিনারে পরিবেশবাদীদের দাবি
g ইত্তেফাক রিপোর্ট
আসন্ন জলবায়ু সম্মেলনে (কপ-২৮) বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার সর্বোচ্চ ১.৫ ডিগ্রিতে রাখার জোরালো পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছে অধিকারভিত্তিক নাগরিক সমাজ। সংগঠনের নেতৃবৃন্দ বলেছেন, কার্বন উদিগরণকারী বড় দেশগুলোকে ২০৫০ সালের মধ্যে শূন্য উদিগরণের লক্ষ্য নিয়ে তাদের জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। একই সঙ্গে প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে কাঠামোগত আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন বক্তারা। এছাড়া স্বতন্ত্র লস অ্যান্ড ড্যামেজ তহবিল গঠন করা, জলবায়ু অর্থায়নে নতুন ব্যবস্থা রাখাসহ বেশ কয়েকটি বিষয়ে সুপারিশ করেন তারা। গতকাল শনিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘কপ-২৮ জলবায়ু সম্মেলন :সরকার ও নাগরিক সমাজের অভিমত’— শীর্ষক সেমিনারে তারা এসব কথা বলেন। এছাড়াও ক্ষয়ক্ষতি বা লস অ্যান্ড ড্যামেজের জন্য আলাদা স্বতন্ত্র একটি তহবিল গঠনেরও দাবি বাংলাদেশের জানানো উচিত বলে তারা অভিমত ব্যক্ত করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এবং সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী ইউএনএফসিসিসির বর্তমান প্রক্রিয়ার বেশ কয়েকটি ঘাটতির কথা উল্লেখ করেন, যেমন—কোনো বিষয়ে কোনো একটি দেশ সম্মতি না দিলেই আর কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। তিনি প্রক্রিয়াটি সংস্কারের সুপারিশ করেন। কারণ বিদ্যমান পরিস্থিতি বিশ্বকে একটি গভীর সংকটের দিকে নিয়ে যাচ্ছে এবং অর্জিত সাফল্য হ্রাস করছে। তিনি বলেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার ১.৫ ডিগ্রিতে রাখার লক্ষ্য পূরণের সাম্প্রতিক অবস্থার ওপর বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে তথ্য সংগ্রহ খুব জরুরি।
সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী বৈশ্বিক জলবায়ু আলোচনাকে বিশাল লক্ষ্য পূরণের ক্ষেত্রে সীমিত অর্জনসমৃদ্ধ একটি ডুবন্ত জাহাজ হিসেবে উল্লেখ করেন। এর মূল কারণ হিসেবে তিনি বলেন, এই সম্মেলনে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোতে খুব দায়সারাভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এমন সিদ্ধান্ত নিতে হবে যা সবাই গ্রহণ করবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক জিয়াউল হক বলেন, কার্বন নির্গমন হ্রাসকে সামনে রেখেই আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক বিকল্পগুলোর ওপর ভিত্তি করে জাতীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। ফজলে রাব্বি সাদেকী বলেন, জলবায়ু তহবিলের নামে অনেক ঋণ আসছে, স্বল্পোন্নত দেশগুলোর জন্য ঋণের ফাঁদ তৈরি করছে। শরীফ জামিল জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করে কার্বন নির্গমনকারী দেশগুলোর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন। জিয়াউল হক মুক্তা এবং অন্যরা প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে জন্য একটি কাঠামোগত আইনি ব্যবস্থার সুপারিশ করেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনে ইক্যুইটিবিডি’র আমিনুল হক কপ-২৮-এর গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, এই সম্মেলনে প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নের অগ্রগতি সংগ্রহ ও যাচাই করা হবে। এতে সেই চুক্তির অনেক লক্ষ্যমাত্রা পূরণের ব্যর্থতার চিত্র উঠে আসবে। তিনি উষ্ণতার লক্ষ্যমাত্র ১.৫ এর সীমানা রাখা এবং জলবায়ু অর্থায়নের লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় ধনী দেশগুলোর সমালোচনা করেন। তিনি লস অ্যান্ড ড্যামেজের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছতে ব্যর্থ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র এবং তার বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর সমালোচনা করেন।
ইক্যুইটিবিডি’র রেজাউল করিম চৌধুরীর সঞ্চালনায় সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা স্কুল অব ইকোনমিক্সের সভাপতি ড. কাজী খলীকুজ্জামান আহমদ। সেমিনারে আরো বক্তব্য রাখেন, মির্জা শওকত আলী, ওয়াটার কিপার্স-র শরীফ জামিল, সিপিআরডির মো. শামসুদ্দোহা, পিকেএসএফের ফজলে রাব্বি সাদেকী আহমেদ, সিএসআরএলের জিয়াউল হক মুক্তা, কানসা-বিডির সভাপতি রাবেয়া বেগমসহ আরো অনেকে।